জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন মোদি

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত আটটায় প্রচারিত হবে তার ভাষণ। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় তার সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি।

বৈশ্বিক মহামারির রুপ নেওয়া করোনা ভাইরাসে ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১৬৯ জন ও মারা গেছে তিন জন। ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছে ১৪ জন। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে ভারত সরকার স্পর্শকাতর মানুষদের আলাদা রাখা এবং সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি জোরালো করার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভাইরাস পরীক্ষার সুবিধা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রাথমিকভাবে বেসরকারিগুলোকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার আনতে অনিচ্ছুক হলেও ভারত সরকার এখন তাদের সম্পৃক্ত করতে চাইছে। বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য সব বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। ভাইরাস মোকাবিলায় কাজ করতে থাকা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ ইতোমধ্যেই বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ সেরেছে।

ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকানোর উপায় হিসেবে সংঘরোধের কথা বলা হচ্ছে। সেকারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা সবার কাছে পৌছানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। গত সপ্তাহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্য সরকার। শপিং মল, সিনেমা হল, খেলার আয়োজন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল করে মানুষকে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর ও জাতীয় উদ্যান বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বেসরকারি কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজের অনুমতি দিয়েছে আর বেশ কিছু রাজ্য সরকারও একই বিষয় বিবেচনা করছে।

ভাইরাস মোকাবিলায় ভারত সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির ভারত প্রতিনিধি হেঙ্ক বেকেদাম বলেন, ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিশ্রুতি খুবই আশাপ্রদ। ভারতের ভালো করার অন্যতম কারণ এটি।