পতাকা দিবস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমন

নিয়মিত না লিখলেই বোধহয় ভালো ছিল। নিয়মিত লিখতে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মাঝে মাঝে এমন কঠিন সত্যের সামনে পড়তে হয় যা বললেও বিপদ, না বললেও চলে না। সত্য লঙ্ঘন হয়। আর কদিনই-বা বাঁচব, তাই গলা টিপে সত্যকে হত্যা করতে বুকে বাধে। জীবনে কোনো দিন এমন লিখতে হবে চিন্তাও করিনি। প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারত। ভারতীয় সভ্যতা সে এক ঈর্ষা করার মতো ব্যাপার। হাজার বছরের ভারতীয় সভ্যতা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো।

সেই সভ্যতার নিদারুণ পরিণতি দেখে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। একসময় অযোধ্যার বাবরি মসজিদ আর রাম জন্মভূমি নিয়ে ভীষণ তোলপাড় হয়েছিল। রাজা দশরথের পুত্র রাম ন্যায়-নিষ্ঠার এক জ্বলন্ত প্রতীক। রামের জন্ম রাজপ্রাসাদে। রাম বনবাসে ছিলেন সত্য, কিন্তু তার জন্ম মন্দিরে নয়। তার পরও একসময় রাম জন্মভূমি নিয়ে কি তুলকালামই না হয়েছে! যে সময় বাবরি মসজিদের মিনারে চড়ে হাতুড়ি-শাবল চালিয়েছিল তখন আমি ভারতে নির্বাসিত।

সেই চরম দিনগুলোয় কতবার ট্রেনে চেপে বর্ধমান থেকে হাওড়া গেছি, কলকাতায় ঘোরাফেরা করেছি, বর্ধমান থেকে দিল্লি, দিল্লি থেকে বর্ধমান কতবার ট্রেনে, প্লেনে চেপে আসা-যাওয়া করেছি। কিন্তু কারও মধ্যে কোনো হিংসা-বিদ্বেষের লেশমাত্র দেখিনি। সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত হাওয়া পরিবেশকে স্পর্শ করেনি। কিন্তু এনআরসির বিরুদ্ধে শাহিনবাগের অভাবনীয় প্রতিবাদ ছিল অসাম্প্রদায়িক ভারতের ছবি। শাহিনবাগের নিরস্ত্র সাংবিধানিক প্রতিবাদকে কে বা কারা এমন ধ্বংসাত্মক রূপে দাঁড় করিয়েছে? কে এমন করছে, কেন করছে তা খুঁজে বের করা দরকার।

ভারতের স্বাধীনতার পর বল্লভ ভাই প্যাটেল অনেক ব্যাপারে চরম ভারতীয় ছিলেন। কিন্তু অমিত শাহর মতো ছিলেন না। শুনেছিলাম, ট্রাম্পের সফরের সময় কোনো উত্তেজনা হবে না। কিন্তু সে সময় এই জঘন্য হত্যাযজ্ঞ চলল। যে হত্যার কোনো নিদর্শন ভূ-ভারতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তেমন ঘটনাই ঘটেছে। হাজার বছরের ভারতীয় সভ্যতা কালিমালিপ্ত হয়েছে, সারা পৃথিবীতে গর্ব করার মতো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। ইদানীং সব জায়গায় সব সরকার যে কোনো কাজেই বিরোধীদের উসকানি দেখতে পায়। কিন্তু এখানে সে উসকানিও ছিল না।

সাধারণ মানুষ আর ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ইচ্ছা ব্যক্ত করতে চেষ্টা করেছে। একসময় মহাত্মা গান্ধী যখন কুইট ইন্ডিয়ার আহ্বান করেছিলেন তখন ইংরেজ লাঠিয়ালদের আঘাতে কেউ আহত হলে তারা হাত উঁচু করেনি, নীরবে নির্বিবাদে ইংরেজদের অত্যাচার সহ্য করেছেন। শেষ পর্যন্ত ইংরেজকে ভারত ছাড়তে হয়েছে। তারা জয়ী নয়, পরাজিত হয়েছে। শাহিনবাগেও তাই দেখছি।

কারও ওপর লাঠিচার্জ কিংবা কাউকে ধরে নিতে গেলে ১০-২০ জন মেয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শেষে সেই আন্দোলনকারী ছেলেকে আইন প্রয়োগকারী কিংবা সরকারের লাঠিয়ালরা তুলে নিতে পারছে না। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সাধারণ মানুষ খাবার দিচ্ছে। কত শিখ ভদ্রলোক তাদের সব টাকাপয়সা উজাড় করে বিলিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ তো বাড়িঘর বিক্রি করে আন্দোলনকারীদের খাইয়েছে।

এতে কী বোঝা যায়? এখনো যে মানুষ মানুষের জন্য তার আর কী প্রমাণ দরকার? এনআরসি নিয়ে এমন তুলকালাম হবে কেন? স্রষ্টার দুনিয়ায় রাষ্ট্রের সীমার তেমন মূল্য নেই। তবু শৃঙ্খলার জন্য, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য, সুস্থজীবন ধারণের জন্য রাষ্ট্রীয় সীমারেখা। সে তো জীবনের থেকে বড় নয়, সৃষ্টির থেকে বড় নয়। তাহলে এমন কেন? মসজিদে আগুন, মসজিদের মিনারে চড়ে পতাকা নিয়ে নাচানাচি এ কীসের ইঙ্গিত? আবার এও তো দেখছি মুসলমানরা নামাজ পড়ছে হিন্দুরা তাদের নিরাপত্তা দিতে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে, চারদিকে মুসলমান ঘেরা মহল্লায় মর্যাদার সঙ্গে মন্দির দাঁড়িয়ে আছে, তার গায়ে ফুলের আঁচড়ও লাগেনি। এসব দেখেও কি ক্ষমতাবানরা সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝতে পারে না? সরকার অবুঝ হলেও সাধারণ মানুষের মানবতা, ভালোবাসা থেকে ক্ষমতাবানদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ক্ষমতাবানরা কখনো তা নেয় না।

দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতে ছিলাম। কত মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা হয়েছে, দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে তখন শ্রীনরেন্দ্র মোদি দৃশ্যপটে ছিলেন না। তাই তার সঙ্গে দেখা হয়নি। কথাবার্তা, পরিচয় কোনো কিছুই হয়নি। অনেকে তাকে অনেক রকম বলেছে, কেউ তাকে জনপ্রিয় জাদুকর বলেছে। গত নির্বাচনের আগে তাকে নিয়ে এমন ধোঁয়াশা ছিল যে, তার নেতৃত্বে বিজেপি জয়লাভ করলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

কিন্তু আমার তেমনটা মনে হয়নি। আমার মনে হয়েছিল তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং তা-ই হয়েছিলেন। এবারের বিজয় তো তাকে জাতীয়, আন্তর্জাতিক স্তরে এক বড় নেতার মর্যাদা দিয়েছে। তাহলে তিনি কেন সংকীর্ণতার পরিচয় দেবেন? অন্যদিকে আম আদমি পার্টির মাত্র কদিন আগে দিল্লিতে এক ঐতিহাসিক বিজয়। তাকেও তো এক বিরাট মর্যাদা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে শাহিনবাগ নিয়ে তার সম্পর্কে অনেক কথা উঠেছিল। তাতে ভোটারদের ইচ্ছার কোনো হেরফের হয়নি। সবাই তাকে ভোট দিয়েছে। ৭০ আসনের ৮টি বাদে সবকটি পেয়েছে আম আদমি পার্টির ঝাড়– মার্কা। আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ঝাড়– নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল সব আবর্জনা, সব দুর্নীতি-অনিয়ম তারা ঝেঁটিয়ে বিদায় করবেন। কতটা কী পেরেছেন আর কতটা কী পারবেন জানি না। তবে এটা সত্য, আম আদমি পার্টি ও তার মূল নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন। কী কারণে তিনিও মুখ ফিরিয়ে আছেন বুঝতে পারছি না। তবে এটা সত্য, পৃথিবীর কোথাও কখনো গণদাবি বিফল হয়নি।

আর কদিন পর আমাদের নেতা আমাদের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন এবং শতবর্ষ পালন অনুষ্ঠান। সেখানে বাইরে থেকে অনেকেই আসবেন। বিশেষ করে নিকট প্রতিবেশী ভারতের নেতারা। ভারত আমাদের স্বাধীনতায় ধাত্রীর ভূমিকা পালন করেছে। তাই আমাদের আনন্দে তাদের শরিক না হওয়া এক অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু এই উত্তেজনাকর দাঙ্গা-পরবর্তী ভারতের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীনরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসা নিয়ে আপত্তিকেও তো একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ ক্ষেত্রে সত্যিকার কূটনীতিকের মতো বলেছেন, ‘ভারত এবং ভারতীয় নেতাদের আমন্ত্রণ না জানালে সেটা হবে অকৃতজ্ঞতা।’ সত্যিই যথার্থ বলেছেন। কিন্তু যে ঘটনা ভারতে ঘটছে বিশেষ করে দিল্লিতে তাও তো কাম্য নয়, বরং মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক।

কেন ভারতীয় পরম আপনজনদের আসার প্রশ্নে দেশের মানুষের আপত্তি উঠবে? এ আপত্তি ওঠাই তো এক চরম দুর্ভাগ্য। আমরা সবাই যদি দুই হাত প্রসারিত করে বুকে আগলে নিতে পারতাম সেটা কত সুন্দর হতো। সেটাই হচ্ছে না। এটা যে কত দুঃখের ও মর্মপীড়ার কাউকে বোঝানো যাচ্ছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমন্ত্রিতদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেছেন। সেটা তো সরকারি। কিন্তু আমরা চাই সমগ্র দেশবাসীর প্রাণঢালা বাঁধভাঙা জোয়ার। শের শাহর হাতে পরাজিত হুমায়ুন ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন আর তার স্ত্রী নিয়েছিলেন রাজস্থানের রাজপুত পরিবারে।

সেখানে আকবরের জন্ম। এমন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন কী করে ঘুচে যায় সেটাই ভাবতে অবাক লাগে। আর্চারিয়া বিনবাভাবে বলে একজন অত্যন্ত বড় মাপের আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন। তিনি যখন মারা যান আমি তখন ভারতে। তার লাখো লাখো ভক্ত-অনুরক্ত ছিল। শেষ জীবনে তিনি যখন কাজ করতে পারতেন না, তখন তিনি ইচ্ছামৃত্যু চাচ্ছিলেন। তার কথা ছিল ‘যেহেতু আমি কারও কোনো কাজে লাগি না সেহেতু আমি যে আহার করি তা অন্য কেউ করতে পারত। আমি কেন অন্যের আহার গ্রহণ করব!’ এ ছিল তার মতবাদ। এটাই ভারতের প্রাণ, ভারতের দর্শন। সেই ভারতে ব্রিটিশের উসকানিতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়েছে সেটা এক কথা।

কিন্তু এখন হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান দাঙ্গা হবে- তা কল্পনারও অতীত। অথচ সেটাই ভারতের মহানুভবতাকে কেন যেন খর্ব করেছে। এসব সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তা থেকে মানবজাতি বেরিয়ে আসতে না পারলে সমাজের কোনো কল্যাণ নেই, আমাদের কোনো কল্যাণ নেই। তাই ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা দরকার। দিল্লির ঘটনায় আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নেই- এটা নিয়ে অনেকেই গর্ব করছেন, প্রশান্তির ঢেঁকুর তুলছেন। ব্যাপারটা অবশ্যই গর্বের। তাই বলে কারও কোনো কষ্ট নেই তা কিন্তু নয়। সম্প্রদায়গতভাবে কখনোসখনো হিন্দুরা অবহেলিত, নির্যাতিত, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না তেমন নয়। গ্রাম্য টাউটদের দ্বারা এখনো অসংখ্য হিন্দু সর্বস্ব হারাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব দেখা দরকার।

গতকাল ছিল পতাকা দিবস। আজ ইশতেহার পাঠের দিন। অথচ আমরা অনেক মীমাংসিত বিষয় অমীমাংসিত রেখে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করছি। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক- এ কথা আলোচনায় আসার কথাই ছিল না। আজ রাজনীতির কারণে যা কিছুই হোক মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের নাম ফেলে দেওয়ার নয়। সে সময় তার নাম অনেক আবেদন সৃষ্টি করেছে। আমরা কেন যে যথাসময়ে যার প্রাপ্য যা তা দিতে পারি না- এটাই বড় পীড়াদায়ক।

গতকাল আ স ম আবদুর রবের পতাকা দিবসের আলোচনায় গিয়েছিলাম। বড় ভালো লেগেছে। এখন তার কোনো অনুরোধ ফেলতে পারি না। পয়লা মার্চ সকালে ফোন করেছিলেন, ‘কাদির! আলোচনা সভার কথা মনে আছে তো?’ বলেছিলাম, নিশ্চয়ই মনে আছে। আর আমার সারা জীবনের অভ্যাস কাউকে কথা দিলে জীবন দিয়ে তা পালনের চেষ্টা করি। এখনকার প্রেক্ষাপট যেমন আলাদা, তখনকার প্রেক্ষাপট ছিল অন্যরকম। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আজকাল পতাকা তোলা কোনো কঠিন কাজ নয়।

বরং পতাকা তোলাই রেওয়াজ। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রে একটা নতুন দেশের পতাকা তোলা সে ছিল অসম্ভব, এক দুঃসাহসিক কাজ। সে কাজটাই ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব কামান-বন্দুক-ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে করেছিলেন। আজ তা স্বীকার করতে হবে, হেলাফেলা করতে হবে- এ কোনো কাজের কথা হলো না। সেজন্য অনেকবার বলেছি, আস্থা আছে বলে এখনো বলছি, জাতীয় কিছু ঘটনাকে স্বীকার করে জাতীয় মর্যাদা দিন তাহলে অনেক বিতর্ক শেষ হয়ে যাবে।

পতাকা দিবস জাতীয়ভাবে সরকারি উদ্যোগে পালন করা উচিত। হ্যাঁ, ২ মার্চ আ স ম আবদুর রবের হাতে উত্তোলিত পতাকা স্বাধীনতার পর যদি বদলে যেত তাহলে অন্য কথা ছিল। কিন্তু সে পতাকাই যখন ভদ্রলোকেরা গাড়িতে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান তখন পতাকা উত্তোলনকারীকে স্বীকার করতেই হবে, সেই দিনটিকে পালন করতে হবে। আচ্ছা, ৩ মার্চ যদি পালন করা হতো, স্বীকার করা হতো তাহলে অনেক প্রশ্নের অবসান হতো না? ২ মার্চ পতাকা তোলা হয়েছিল, ৩ মার্চ পল্টনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়। সেখানে পতাকা, জাতীয় সংগীত, রাষ্ট্রপতি সবকিছু স্থির করা হয়েছিল। কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হয়নি। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ ইশতেহার পাঠ করেছিলেন।

তার সঙ্গে অনেকের মতের মিল না থাকতে পারে; কিন্তু সেদিন তিনি জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অনেক কিছু অস্বীকার করায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব নিয়েও স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন এসেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিসংবাদিত নেতা। স্বাধীনতা নিয়ে যেমন কোনো প্রশ্ন ছিল না, নেতাকে নিয়েও নয়। মুজিবনগর বিপ্লবী সরকার হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তার পরও কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন, কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও তার বাবা রাষ্ট্রপতি ছিলেন- এসব গাওজোরামির কথা।

যদি মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় যা যেভাবে ঘটেছে তা সেভাবেই তুলে ধরা হতো তাহলে জিয়ানগর সরকার না হয়ে মুজিবনগর সরকার হওয়ার পরও জনাব জিয়াউর রহমান বীরউত্তম কিছুক্ষণের জন্য রাষ্ট্রপতি, তিনি স্বাধীনতার ঘোষক এ কথা আসত না। জিয়াউর রহমানকে যে ঘোষণায় ঘোষক বলে তার সমর্থকরা চালাবার চেষ্টা করেন তা ছিল, I, Major Zia, do hereby declare the independence of Bangladesh on behalf of our great national leader Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman!. কারও পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা বা অন্য কোনো ঘোষণা তার কর্তৃত্ব-নেতৃত্ব বোঝায় না।

জিয়াউর রহমানের স্বকণ্ঠ ঘোষণা এখনো আছে। মানুষকে শুনিয়ে দিলেই হয়। কিন্তু সেখানেও লুকোচুরি। কেন এমন হবে? বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর জন্য, স্বাধীনতার জন্য জান কোরবান করেছি তারা যথাযথ মর্যাদা পাব। বিশেষ করে পতাকা উত্তোলনের জন্য আ স ম আবদুর রব, ইশতেহার পাঠের জন্য শাজাহান সিরাজ, গণআন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ, ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, আবদুল কুদ্দুস মাখন, যুবনেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, কে এম ওবায়দুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মণি, আবদুর রাজ্জাক ও অন্য নেতারা সেই সঙ্গে যেখানে যার যা প্রাপ্য পূর্ণমাত্রায় বুঝিয়ে দেওয়া হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

লেখক : রাজনীতিক।