বেহুদা মামলা করে বিপদে নাজমুল হুদা

বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ এনে যে মামলাটি করেছিলেন নাজমুল হুদা, তার কোনো সত্যতা পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন।

মিথ্যা অভিযোগ করায় এখন নাজমুল হুদার বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান জানিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সিনহা দুই বছর আগে নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্যে বিদেশে পাড়ি জমানোর পর যখন তার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে নেমেছিল দুদক, তখনই ঘুষের মামলাটি করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজমুল হুদা।

গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলাটি হলে পুলিশ ৩ অক্টোবর মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেয়। ওই মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

দুদক মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব বলেন, “উনি (ইকবাল) তদন্ত প্রতিবেদন ‘ফাইনাল রিপোর্ট অ্যাজ ইন্টেনশনালি ফলস’ হিসেবে দাখিল করেছেন।”

কমিশন এই অভিযোগ থেকে বিচারপতি সিনহাকে অব্যাহতি দিলেও একই দিন ঋণ জালিয়াতির মামলায় তাকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।

এদিকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে দুদক আইনের ২৮(গ) (২) ধারায় মামলা করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান সাঈদ মাহবুব।

এই বিষয়ে নাজমুল হুদার কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী নাজমুল হুদা ওই দল ছেড়ে নতুন দল গড়ে এখন আওয়ামী লীগের জোটে ভেড়ার আশায় আছেন।

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করার পর নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০১৭ সালে তার কাছে সোয়া তিন কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন বিচারপতি এস কে সিনহা।

“সে সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, টাকা না দিলে আমার বিরুদ্ধে করা সবকটি মামলার রায় বিরুদ্ধে যাবে। ঘটনার তারিখ ছিল ২০ জুলাই। ওই দিন দুপুরে প্রধান বিচারপতি তার খাস কামরায় ডেকে ঘুষ দাবি করেন।”

সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক মামলায় নাজমুল হুদার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময় দেওয়া ওই মামলার রায়ে হুদার স্ত্রী সিগমা হুদারও তিন বছর কারাদণ্ড হয়েছিল।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাই কোর্ট তাদের খালাস দেয়। কিন্তু দুদকের আপিলে আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। তখন আপিল বিভাগে ছিলেন বিচারপতি সিনহা।

মামলার পুনঃশুনানি শেষে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল হুদাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়।

বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ কোম্পানি মর্গানেট ওয়ান লিমিটেডের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আরেক মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক।