সরকারের সামনে অন্যরকম ৫ চ্যালেঞ্জ

সরকার বিভিন্ন রকম সংকট মোকাবিলায় ব্যতিব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। একদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। তার সঙ্গে ক্রমশ দানা বাধছে অর্থনৈতিক সংকট। এর পাশাপাশি সারাদেশে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। এই প্রধান সংকটগুলোর পাশপাশি কিছু অপ্রধান সংকট ঘনিভূত হচ্ছে। এই সংকটগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা না করলে একদিকে যেমন জনআস্থার সংকট তৈরী হতে পারে তেমনি সরকারের ব্যাপারে মানুষের নেতিবাচক ধারণাও তৈরী হতে পারে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছে। আর তাই করোনা, বন্যা কিংবা অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ভিন্ন রকমের কিছু চ্যালেঞ্জের দিকে সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে নজর দিতে হচ্ছে এবং এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

 আরো পড়ুন-সে’ক্স সম্পর্কে যে ভুল ধারণাগুলো মেয়েদের মনে বাসা বেঁধে আছে…

সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জের বাইরে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জগুলো এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে;

সিনহা হত্যার বিচার

৩১ জুলাই টেকনাফে মেরিন ড্রাইভে চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এই বিষয়টি সারাদেশে তোলপাড় তৈরী করেছে। বিশেষ করে এরকম একজন তরুণ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে সকলেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দুরদৃষ্টির কারণে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কারণেই অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেনা ও পুলিশ বাহিনীর প্রধানরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিচার কার্য শুরু হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সুষ্ঠু বিচারের ব্যাপারে দুই বাহিনী একমত পোষণ করেছেন। এখন দেখা যাক সিনহা হত্যার বিচার কিভাবে হয়। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের কল্যাণ সমিতি (রাওয়া) একমাসের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে তার মধ্যে বিচার করতে বলেছেন। দেশের মানুষও এই নির্মম হত্যকাণ্ডের দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করে। কাজেই এই বিচারটিকে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে করা সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

দুর্নীতিবাজদের বিচার

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই নানারকম দুর্নীতির খবর বের হতে থাকে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতির খবর সারাদেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত করে তোলে। ইতিমধ্যে সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারক সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে জেকেজি’র ডা. আরিফ এবং সাবরিনাসহ অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুদক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে তলব করেছে। সাধারণ মানুষ দেখতে চায় এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং কঠিন অবস্থান এবং যারা করোনাকালীন সময়ে প্রতারণা-দুর্নীতি করেছে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এই বিচারগুলো দ্রুত করা, দৃশ্যমান করা এবং নির্মোহভাবে করা সরকারের জন্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গুজব এবং অপপ্রচার ঠেকানো

করোনা মহামারির চেয়েও বড় হয়ে দেখা গেছে গুজব এবং অপপ্রচারের মহামারি। যেকোন ঘটনা নিয়ে নানারকম উদ্ভট গুজব ছড়ানোর জন্যে একটি মহল যেন সক্রিয় থাকছে সবসময়। সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর নানারকম গুজব ছড়ানো হয়েছে এবং কোনকিছু ঘটলেই গুজব ছড়িয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির ভেতরে ফেলা একটি মহলের যেন নেশায় পরিণত হয়েছে। এই কারণেই গুজব-অপপ্রচার ঠেকানো সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অনেকেই এই গুজবে বিশ্বাস করছে এবং নানারকম প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

চিকিৎসায় জনআস্থা ফেরানো

সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সরকারের সামনে এসেছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষজন হাসপাতালে যাচ্ছে না, অন্যান্য চিকিৎসার জন্যেও পারতপক্ষে যাচ্ছে না। এই অবস্থা স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি বড় হুমকি বলে মনে করছেন অনেকে এবং এই কারণে চিকিৎসায় জনআস্থা ফেরানো সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষায় সঙ্কট

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গত ১৭ মার্চ থেকে টানা বন্ধ। অন্য সবকিছু খুললেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো খোলেনি। এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়া হলেও এইসএসসি পরীক্ষা কবে হবে তা জানা যায়নি। অনলাইন ক্লাশ নিয়ে নানারকম জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষার সঙ্কট মোকাবেলা করাও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আর এই চ্যালেঞ্জগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এই চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষকে আস্থায় নিয়েই একটি সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হয়।